নবীনদের দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতে হবে: পাবিপ্রবি উপাচার্য

বক্তব্য রাখছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশবক্তব্য রাখছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন বলেছেন, নবীন শিক্ষার্থীদের দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতে হবে। কৈশোর যেমন স্বপ্ন দেখার সন্ধিক্ষণ তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্পনের প্রথমটাও স্বপ্ন দেখার সন্ধিক্ষণ। এই সন্ধিক্ষণে নবীনদের দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতে হবে।

রোববার (২২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হাফিজা খাতুন এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়টা প্রযুক্তির সময়। আমাদেরকে নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাধন ঘটাতে হবে এবং সেই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করে এগিয়ে যেতে হবে। সরকার প্রযুক্তিখাতে আরো সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য অনেকগুলো বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সেই বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। এখান থেকে নতুন জ্ঞান উদ্ভাবনের শিক্ষার্থীদের দেশের প্রযুক্তি খাতে অবদান রাখতে হবে। আশা করছি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে দেশের প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সকাল সাড়ে দশটায় ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান রওশন ইয়াজদানি ও বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মীর হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে ছয় বছর পর পাবিপ্রবিতে সেন্ট্রাল নবীনবরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং নবীনবরণ কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. এস এম মোস্তফা কামাল খান।

স্বাগত বক্তব্য শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্য নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন। তারপর এক এক করে আলোচনা রাখেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা, রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব), প্রক্টর এবং ছাত্র উপদেষ্টা।

সবশেষে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম মোস্তফা কামাল খান বলেন, একুশ শতকের বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য অন্যতম মাধ্যম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। প্রযুক্তির বিকাশের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় নতুন নতুন জ্ঞান তৈরি করছে। গবেষণার নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি গণতন্ত্র, মুক্ত চিন্তা সর্বোপরি বিশ্ব মানব তৈরি করছি আমরা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যোগ্য ও সুনাগরিক তৈরি হচ্ছে এখানে। আগামী শতকের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে তোমাদের হাত দিয়ে। তারুণ্যের শক্তি দিয়ে দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে এখানকার শিক্ষার্থীরা।

আলোচনা শেষে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব সিজান এবং ইতিহাস এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ ফারিহার সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

নবীনবরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিলো জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণিল। সকাল থেকেই নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় কোলাহলমুখোর হয়ে উঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

টুর‍্যিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজম্যান্ট বিভাগে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থী জাইম আহমেদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ছোটোবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো। আজকে সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সেন্ট্রালি বরণ করে নিচ্ছে এটা নিয়ে আমি অনেক খুশি।

রসায়ন বিভাগে ভর্তি হওয়া আরেক নবীন শিক্ষার্থী নিলুফার ইয়াসমিন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এতদিন ধরে এরকম একটা দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এতে আমি অনেক খুশি।

ঝিনাইদহ থেকে মেয়েকে নিয়ে আসা অভিভাবক আসাদুজ্জামান  বলেন, ছেলেমেয়েরা অনেকদিন ধরে বাসায় বসেছিলো। অবশেষে তাদের ক্লাস শুরু হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদেরকে সুন্দর আতিথেয়তা দেখিয়েছে। আমরা আশা করছি যে স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই স্বপ্নপূরণে সহায়তা করবেন।