মেদিনীপুরের বড় হুজুর পাক হযরত সৈয়দ শাহ্ রশীদ আলী আল্ কাদেরীর ইন্তেকাল

দৈনিক মাতৃকণ্ঠ- ফাইল ফটোঃ বড় হুজুর পাক হযরত সৈয়দ শাহ্ রশীদ আলী আল্ কাদেরী আল্ হুসাইনী আল্ মেদিনীপুরী। ছবিটি তিনি ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে দুই দিনের সফরে রাজবাড়ীতে আসার পর তোলা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের সাজ্জাদানশীন বড় হুজুর পাক হযরত সৈয়দ শাহ্ রশীদ আলী আল্ কাদেরী আল্ হুসাইনী আল্ মেদিনীপুরী গতকাল ১৬ই আগস্ট বিকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রাজবাড়ী বড় মসজিদ খানকা শরীফের পেশ ইমাম আলহাজ্ব হাফেজ মোঃ শাহজাহান জানান, গতকাল ১৬ই আগস্ট ভারতের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৫৫মিনিটে কলকাতার হাজী মুহাম্মদ মহসীন স্কোয়ার সড়কের নিজ বাড়িতে আওলাদে রাসূলের ৩৫তম বংশধর মেদিনীপুরের সাজ্জাদানশীন বড় হুজুর পাক হযরত সৈয়দ শাহ্ রশীদ আলী আল্ কাদেরী আল্ হুসাইনী আল্ মেদিনীপুরী ইন্তেকাল করেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি সহধর্মিনী, ছোট ভাই এবং ভাতিজাসহ তার বংশের অনেক আত্মীয়-স্বজন এবং দেশ-বিদেশে অসংখ্য মুরিদ ও ভক্ত রেখে গেছেন।

হাফেজ মোঃ শাহজাহান আরো জানান, বড় হুজুর পাকের ইন্তেকালের বিষয়টি শুনতে পেয়ে তিনি মেদিনীপুরে হুজুর পাকের খাদেম মোঃ টিয়াকে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।

তার ইন্তেকালের খবরে আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া রাজবাড়ীর সভাপতি কাজী ইরাদত আলীসহ আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়ার বিপুল সংখ্যক মুরিদ ও ভক্তবৃন্দ এবং রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

হাফেজ মোঃ শাহজাহান জানান, বড় হুজুর পাক হযরত সৈয়দ শাহ্ রশীদ আলী আল্ কাদেরী আল্ হুসাইনী আল্ মেদিনীপুরীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় রাজবাড়ী বড় মসজিদ খানকা শরীফে ৪০দিনব্যাপী কোরআনখানী ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনআনখানী শেষে বাদ মাগরিব দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

কলকাতার দৈনিক পুরের কলম নামক পত্রিকার খবরে বলা হয়, মেদিনীপুরের ‘বড়ো হুজুর পাক’ নামে খ্যাত কাদেরিয়া তরিকার বর্তমান ‘সাজ্জাদানশীন’ মহান সুফি সাধক হযরত সৈয়দ শাহ রশীদ আলী আল কাদেরী আল বাগদাদী গতকাল সোমবার বিকেল ৪.৫৫ মিনিটে তাঁর কলকাতার খানকা শরীফ(বাসস্থান) ৪নং হাজী মুহাম্মদ মহসীন স্কোয়ারে ইন্তেকাল করেছেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বড়ো হুজুর পাক ছিলেন এই জমানার শ্রেষ্ঠ আলেম। কাদেরিয়া তরিকার মহান ঐতিহ্য অনুসারে তাঁর দরবারে উচ্চ-নীচ, ধনী-দরিদ্র কোনও ভেদাভেদ ছিল না। তাঁর দরবারে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত ধরনের মানুষ ভিড় করতেন। ভারত-বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশেও তাঁর অসংখ্য মুরিদ ও ভক্ত ছড়িয়ে রয়েছেন।

তাঁর পর্দা নেওয়ার(লোকান্তরিত হওয়ার) খবরে ভক্তমহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। মেদিনীপুর শহরের জোড়া মসজিদ সংলগ্ন মাজার শরীফ চত্বরে তাঁদের পারিবারিক সমাধিস্থলে তাঁর পূর্ব পুরুষ ‘আলা হুজুর পাক’, ‘মওলা পাক’, ‘পীর ও মুরশেদ পাক’ ও ‘পর্দা হুজুর পাক’(তাঁর আব্বাজান)-এঁর মাজার শরীফের পাশেই তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বড় হুজুর পাক হযরত সৈয়দ শাহ্ রশীদ আলী আল্ কাদেরী আল্ হুসাইনী আল্ মেদিনীপুরী ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে দুই দিনের সফরে রাজবাড়ীতে আসেন। ৬ই এপ্রিল বিকেলে তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মুর্শিদিয়া নগর মর্জ্জৎকোল এলাকায় “আল মাদ্রাসাতুল কাদেরীয়া-তুল মুর্শিদিয়া” নামক কামিল মাদ্রাসার ভিত্তি প্রস্তরের ফলক উম্মোচন করেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।