আমেরিকা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ফলাফল ২০২০

দুই প্রধান প্রার্থীর ভোট সংখ্যা

এখন পর্যন্ত যেসব রাজ্যের ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় জো বাইডেন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও দু'জনের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।

মোট ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪২টি রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, জো বাইডেন ২২৭টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেতে যাচ্ছেন, আর ডোনাল্ড ট্রাম্প পেতে যাচ্ছেন ২১৩টি ভোট।

বিজয়ী হতে হলে তাদের ইলেকটোরাল কলেজের অন্তত ২৭০টি ভোট পেতে হবে।

সর্বশেষ পাওয়া ফল বলছে, ফলাফল নির্ধারনী গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, আইওয়া এবং উইসকনসিনের গণনায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ২১টি অঙ্গরাজ্যে জয় পাবেন বলে পূর্বাভাস করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালাবামা, আরকানস, আইডাহো, ইন্ডিয়ানা, ক্যানসাস, কেন্টাকি, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি এবং মুজৌরি।

আমেরিকার নির্বাচনে সুইং স্টেটগুলো গুরুত্বপূর্ণ কেন?

এর বাইরে মি. ট্রাম্প আগের নির্বাচনে জেতা যেসব রাজ্য ধরে রাখতে পারেন: নেব্রাস্কা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, ইউটাহ, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং ওয়াইওমিং।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন ক্যালিফোর্নিয়ায় জিতছেন বলে পূর্বাভাস, যেখানে রয়েছে ৫৫টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট। এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসি, ভারমন্ট, ডেলাওয়্যার এবং ম্যারিল্যান্ডে তিনি বিজয়ী হতে যাচ্ছেন।

মি. বাইডেন আরো জিতছেন, ম্যাসাচুসেটস, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, কানেটিকাট, কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ইলিনয়, অরেগন, ভার্জিনিয়া এবং ওয়াশিংটনে।

যুক্তরাষ্ট্রের গত ১০০ বছরের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পড়েছে, যা একটি রেকর্ড।

নয়টি রাজ্যে ফল এখনও অনিশ্চিত

এই নয়টি রাজ্যের যে কয়টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে:

  • আলাস্কা – ৩
  • অ্যারিজোনা – ১১
  • জর্জিয়া – ১৬
  • মেইন -৪
  • মিশিগান- ১৬
  • নেভাডা- ৬
  • নর্থ ক্যারোলাইনা – ১৫
  • পেনসিলভেনিয়া – ২০
  • উইসকনসিন – ১০
রজ্যের ফলাফল
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে যুক্তরাষ্ট্রে
ফ্লোরিডায় খুঁটি ধরে রাখলেন ট্রাম্প

ফ্লোরিডায় প্রায় সব ভোট গণনা শেষ। সেখানে লড়াই হয়েছে প্রায় সমানে সমানে।

কিন্তু রাজ্যের নির্বাচকমণ্ডলী বা ইলেকটররা জানিয়ে দিয়েছেন তারা ওই রাজ্যের ইলেকটোরাল কলেজ ভোটগুলো মি. ট্রাম্পকে দিতে যাচ্ছেন।

সেখানে মি. ট্রাম্প পেয়েছেন ৫১% ভোট আর মি. বাইডেন পেয়েছেন ৪৮% ভোট।

এই রাজ্যে ২০১৬ সালে মি. ট্রাম্প যত ভোট পেয়েছিলেন এবার তার থেকে আরও দুই পয়েন্ট বেশি ভোটে বিজয় পেয়েছেন। ২০১৬-তে হিলারি ক্লিন্টন ওই রাজ্যে যা ভোট পেয়েছিলেন, মি. বাইডেন তার থেকে ফল আরও এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

হোয়াইট হাউসে যাবার দৌড়ে জয়ী হবার জন্য ফ্লোরিডায় বিজয় ধরে রাখা মি. ট্রাম্পের জন্য একান্ত জরুরি ছিল। সেটি তিনি পেয়ে গেছেন, যেটা পুনর্নিবাচিত হবার পথে তার সম্ভাবনাকে উজ্জীবিত করেছে।

বিবিসির হিসাব বলছে, মি. ট্রাম্প রক্ষণশীলদের আরেকটি শক্ত দুর্গ টেক্সাসেও জয় পেতে চলেছেন। মি. বাইডেনের শিবির সেখানে মি. ট্রাম্পকে ধরাশায়ী করতে পারবে বলে আশা করছিল।

তবে মি. বাইডেন হয়ত অ্যারিজোনায় জয় পেতে পারেন, যেটি প্রথাগতভাবে লাল দুর্গ অর্থাৎ রিপাবলিকান শক্ত ঘাঁটি।

ফক্স নিউজ এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বার্তা সংস্থা প্রজেক্ট করছে অর্থাৎ আগাম ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অ্যারিজোনা মি. বাইডেনের পক্ষে যেতে পারে। সিবিএস নিউজও (আমেরিকায় বিবিসির পার্টনার স্টেশন) একই ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে চার বছর আগে যে ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোয় বিজয় মি. ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে বসিয়েছিল, সেই রাজ্যগুলো -পেনসিলভেনিয়া, মিশিগান এবং উইসকনসিন- কোন্ দিকে যাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই রাজ্যগুলোয় গণনা থেকে মনে হচ্ছে ফল যে কোন দিকে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জিততে হলে পেনসিলভেনিয়ায় জেতা মি. ট্রাম্পের জন্য নিতান্তই জরুরি।