Tuesday, February 27, 2024
Homeদেশ-জুড়েশেরপুরে রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় অবরুদ্ধ চার শতাধিক মানুষ : প্রতিবাদে মানব...

শেরপুরে রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় অবরুদ্ধ চার শতাধিক মানুষ : প্রতিবাদে মানব বন্ধন

শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :
লিঙ্ক: চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের দিকপাড়ার বন্ধের বাড়ী এলাকার চার শতাধিক মানুষরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। এতে তারা চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান আলী গংরা এ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাত বছর আগে এলাকার লোকজনের দেয়া জমিতে রাস্তা নির্মান করা হয়। এ রাস্তা দিয়ে চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের দিকপাড়া বন্ধেরবাড়ী এলাকার চার শতাধিক মানুষ চলাচল করে আসছে। মাঠের  উৎপাদিত ফসল এ রাস্তা দিয়েই আনা নেয়া করে আসছিলো। বিভিন্ন বিদ্যায়ে ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে আসছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে বিগত ১৬ ডিসেম্বর ওই রাস্তার শুরুতেই দিকপাড়ার বাসিন্দা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান আলী গংরা রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে বাধা দিলে এলাকার চিহ্নিত
সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে ওই রাস্তার ওপর ইটের দেয়াল নির্মান করে শাহজাহান আলী। এরপর থেকেই ওই এলাকার মানুষ বন্দিজীবন যাপন করে আসছে। প্রায় ৭ বছর আগে স্থানীয়দের দানকৃত জমি দিয়ে এলাকার সকলের সহযোগিতায় তৈরি করা প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার অন্তত একশটি অবরুদ্ধ পরিবার অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। আজ ৮ ফেব্রুয়ারী বিকেলে তাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন অবরুদ্ধ এলাকার লোকজন। বৃহস্পতিবার বিকেল
৪টার দিকে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষিমারী ইউনিয়নের দিকপাড়ায় শেরপুর টু জামালপুর মহা-সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় এলাকার লোকজন তাদের দূর্ভোগের বর্ণনা দেন ।

ইউপি সদস্য হালিমা বেগম বলেন, আমরা এলাকার মানুষের দানের জমিতে এলাকার জনগন প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা নির্মান করেছি। বিএস শাহজাহান গংরা মাস্তান ভাড়া করে এনে রাস্তাটি বন্ধ করায় দীর্ঘ ২ মাস যাবত আমরা গৃহবন্দি, বাড়ি থেকে কোথাও বের হতে পারছি না। কৃষক কাশেম আলী বলেন, মাঠের ফসল আনতে পারছিনা। আমাদের ফসলগুলো নষ্ট হচ্ছে। থানা থেকে পুলিশা আইসা সরেজমিনে তদন্ত করলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। তাই নিরুপায় হয়ে মানব বন্ধনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি। মিজানুর রহমান বলেন, আমরাও চলাচল করবার পারতাছিনা। আমাগো পওলাপানগুইলা স্কুলে যাবার পাইতাছেনা। আমরা রাস্তাডা খুইলা চাই।  হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা অবিলম্বে চলাচলের রাস্তাটি খুলে দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। শাহজাহান মাস্তান ভাড়া কইরা আমাগো হুমকি দিতাছে।
আমরা এসবের বিচার চাই।
এদিকে শাহজাহান আলী ও তার লোকজন পূর্বে রাস্তা দেয়ার কথা স্বীকার করে এখন আর দেয়া হবেনা বলে সাংবাদিকদের জানান। এ সময় সাংবাদিকদের কর্তব্য কাজে বাধা দেয়ারও চেষ্টা করেন তারা। শাহজাহান আলী বলেন, এটা আমার ক্রয়কৃত জমি আমি এখানে রাস্তা দিবোনা। এদিকে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, আমরা এ বিষয়ে অভিযোগে পেয়েছি। আমরা উভয় পক্ষক্ই
ডেকেছিলাম। আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি মিমাংশা করার জন্য। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেও সহযোগিতা কামনা করেন।

RELATED ARTICLES
Continue to the category

Most Popular