Tuesday, February 27, 2024
Homeদেশ-জুড়েবানিয়াচংয়ে অযত্নে অবহেলায় শহীদ মিনার

বানিয়াচংয়ে অযত্নে অবহেলায় শহীদ মিনার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
সারা বছরই অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকে বানিয়াচংয়ের একমাত্র শহীদ মিনারটি। শুধুমাত্র ২১ ফেব্রুয়ারি মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস এলেই শুরু হয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কাজ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দুই একদিন আগে ও পর ছাড়া বছরের বাকী সময় জুড়েই শহীদ মিনারটি থাকে ময়লার ভাগাড় হিসেবে। ভাষা শহীদদের সম্মানে তৈরি করা এই শহীদ মিনারকে যেন দেখভাল করার কেউ নেই। পবিত্রতা রক্ষার্থে  শহীদ মিনারে জুতা পায়ে দিয়ে প্রবেশ নিষেধ।
কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা মানছেন না কেউ। বরং বানিয়াচং শহীদ মিনারটি পরিণত হয়েছে বেকার মানুষদের আড্ডাখানায়। পাশের জিপ স্ট্যান্ডের চালক থেকে শুরু করে সাধারণ পাবলিকও অবসরে আড্ডা মেরে সময় কাটান শহীদ মিনারে। এই আড্ডায় শহীদ বেদিতে বসেই চলে চায়ের সাথে ধূমপান। তারপর এই শহীদ মিনার এর ভিতর এবং আশপাশ ঘিরে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় পৌষ মেলার। যার ফলে নষ্ট হয় পবিত্রতা।
স্থানীয়রা জানান,
সকাল থেকে এই শহীদ মিনারের আশপাশ পরিণত হয় প্রস্রাবখানায়। সন্ধ্যা নামার পরই মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিণত হয় এই শহীদ মিনার। সরেজমিনে দেখা যায়, দিনের বেলায় অনেকেই জুতা পড়ে মিনারের বেদিকে হাঁটা-চলা করছেন। মোটরসাইকেল রেখে সেখানে বসে হরখামেশাই আড্ডায় মেতে উঠেন। পাশাপাশি শহীদ মিনারের ভিতরে কবিরাজ মজমা সাজিয়ে নানান রকম ঔষধ বিক্রিও করেন।
সারা বছর খবর না নিয়ে শুধুমাত্র ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি এলেই কিছুটা কদর বাড়ে বাংলা ভাষার গৌরবময় স্মৃতিবিজড়িত স্থান শহীদ মিনারের। চলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সাজ-সজ্জার কাজ। শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি মাসে শহীদ মিনারে এসব করা হয় আর সারাবছর কোনো নজর না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতনমহল। ভাষা শহীদদের সম্মানার্থে শহীদ মিনারের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষায় জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে-শহীদ বেদিতে বসে উশৃঙ্খল তরুণেরা ধূমপানসহ মাদক সেবন করে। শহীদ মিনারের মূল বেদিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে সিগারেটের প্যাকেট ও অসংখ্য উচ্ছিষ্ট অংশ, ছেড়া জুতা, খড়কুটো,ময়লা-আবর্জনায়। বিশেষ করে মিনারের পূর্বদিকটা অস্থায়ী প্রস্রাবখানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাই এখানে উদ্ভট গন্ধ থাকে সব সময়। শহীদ মিনারের দুইদিকে স্টিলের পাইপ দিয়ে সীমানা দিলেও সেটা কাজ শেষ করার পরপরই ভেঙ্গে পড়ে যায়। এসব পাইপ কে বা কারা নিয়ে গেছে তারও কোনো হদিস নেই।
 বানিয়াচংয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্বব আমির হোসেন মাষ্টার বলেন, শহীদ মিনারটি যেভাবে মর্যাদাহীন হচ্ছে এর চেয়ে বড় দুঃখ আর কিছুই হতে পারে না। শুধুমাত্র দিবস এলেই এর কদর বেড়ে যায়। তাই সবসময় যাতে এই শহীদ মিনারটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং শহীদ মিনারের চতুর্পাশে সীমানা নির্ধারণ করা যায় জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাহবুবুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, কেউ যাতে শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট না করে সেই জন্য বাজার কমিটির পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়েছে। আর উপজেলা প্রশাসন থেকেও আমারা দেখভাল করছি। আশা করছি অতি শীঘ্রই শহীদ মিনারের চারপাশে সীমানা প্রাচীর দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হবে। এর পবিত্রতা রক্ষায় সাংবাদিক থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের লোকজনদের এগিয়ে আসা দরকার।
RELATED ARTICLES
Continue to the category

Most Popular