Wednesday, February 28, 2024
Homeদেশ-জুড়েঅভাব বঞ্চনায় কুড়িগ্রামের দ্বীপচর কৃষ্ণপুরের মানুষ

অভাব বঞ্চনায় কুড়িগ্রামের দ্বীপচর কৃষ্ণপুরের মানুষ

এম এস সাগর, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের দ্বীপচর কৃষ্ণপুর এবং ফান্দেরচরের মানুষের দুর্বিসহ জীবন দৈনন্দিন অর্ধাহার-অনাহার দিন কাটে দারিদ্রতা-অভাব বঞ্চনায়।

চরাঞ্চলের শিশু শিক্ষার আলো, স্বাস্থ্য সেবা ও পুষ্টির থেকে বঞ্চিত। বন্যা, অনাবৃষ্টি এবং দুর্ভিক্ষের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকারগ্রস্ত। অপরদিকে এ চরাঞ্চলের হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন। শীতে বেশি বিপাকে আছেন ছিন্নম‚ল ও নিন্ম আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। কুয়াশা আর ঠান্ডা উপেক্ষা করে পরিবারের অন্ন জোটাতে কাজ করছেন।

প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর ও দুধকুমর বেষ্টিত বল্লভেরখাস ইউনিয়নের একটি অংশ। বর্ষাকালীন সময়ে কৃষ্ণপুর এবং ফান্দেরচরের চরাঞ্চলের মানুষের জীবন চিত্র কষ্টকিষ্ট বেদনাবিধুর। যাতায়াত আদিকাল হতে নৌকার উপর ও বালুচর হেটে নির্ভরশীলসহ শিক্ষা, চিকিৎসা নাজুক অবস্থার মাঝে কাটে জীবন প্রণালি। বালুচর আবাদ অনুপোযোগী হওয়ায় সেখানে চোখে পরে তরমæজের ফসল নানা প্রতিক‚লতার মধ্যে আবাদ করার পর বন্যার করাল গ্রাসে প্রতি বছরই তা বিলীন হয়ে যায়। বন্যার সময় বাড়ি-ঘরে থাকে হাটুসম পানি। তখন মাচা কিংবা ভেলায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে। অধিকাংশ বসবাসকারী মানুষ কর্মহীন। জীবনের প্রয়োজনে জীবিকার তাগিদে তারা সারা বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শ্রম ফেরী করে। অনেকে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালায়। সামর্থ না থাকায় অন্য কোথাও ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ী বসবাস সম্ভব না হওয়ায় তারা অতিকষ্টে বসবাস করে। শিক্ষা স্বাস্থ্য সেবাপ্রাপ্তি তাদের কাছে স্বপ্নসম। উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পড়তে হলে নৌকায় নদী পাড়ি দিয়ে ধুধু বালুচর হেটে যেতে হয় কচাকাটা আসতে হয়। চিকিৎসা সেবা পেতে ঝাড়-ফুক, কবিরাজী অথবা হাতুড়ে ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হতে হয়। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা পেতে তাদের নদী পাড় হয়ে পায়ে হেটে মাদারগঞ্জ কমিউনিটি কিনিকে যেতে হয়। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মীরা তেমন একটা যান না।

আবুল কাশেম, মঞ্জুয়ারা বেগম ও জাহেদা বেগম বলেন, আমরা অদ্যাহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছি। আমরা সরকারি সহযোগিতা এমনকি দাতা সংস্থার সহায়তা থেকে বঞ্চিত। জীবিকার অবলম্বন কুমিল্লা, ফেনী, টাঙ্গাইল, বগুড়া, ঢাকা ও সিরাজগঞ্জ ইত্যাদি জেলা কাজ করাসহ নদীতে মাছ ধরে ও বিক্রি করে জীবন যাপন করা। এখানকার কিছু বালুচর আবাদী হিসেবে পরিণত হয়েছে। ধান পাট ও চিনা ফসল নানা প্রতিক‚লতার মধ্যে আবাদ করার পর বন্যার করাল গ্রাসে তা প্রতি বছরই বিলীন হয়ে যায়। বন্যার সময় বাড়ি-ঘরে থাকে হাটুসম পানি। তখন মাচা কিংবা ভেলায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সব সময় মোকাবেলা করতে হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, কৃষ্ণপুর এবং ফান্দেরচরের মানুষের সকল সমস্যা সমাধানের প্রস্তুতি চলছে।

RELATED ARTICLES
Continue to the category

Most Popular